জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে আবারও যুগ্ম আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। উল্লেখ্য যে, তিনি এই রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটিতেও একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এনসিপি গঠন প্রক্রিয়ার সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদার্পণ করেন আশরাফ মাহদি। এরপর তিনি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটি এবং শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বর্তমানে তিনি এনসিপির সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলা থেকে নিখোঁজ ও গুমের শিকার হয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন আশরাফ মাহদি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মিসরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুবাই ট্রানজিটের সময় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সরকারের সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তিনি একাধিক মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হন। তার এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র আশরাফ মাহদি ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র খেলাফতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। শাপলা চত্বরের আন্দোলন থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা মাহদি পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণ আলেমদের একটি প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়।