রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অভিমুখে যাত্রা করেছে। আজ শুক্রবার জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। চলতি মাসে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই জ্বালানি চালানটি পাঠানো হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে দেশটিতে ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই লক্ষ্যেই চলতি মাসে দুই দেশের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের নির্দিষ্ট কিছু বিধান থেকেও ছাড় দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা যদি জরুরি মজুত থেকে আরও বেশি জ্বালানি বাজারে না ছাড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। মূলত ডিজেলের দাম কমিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এলএসইজির জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্যানুসারে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল বোঝাই করে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে এই চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রুশ ডিজেল আমদানি।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এর ফলে আগামীতে আরও অনেক চালান পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের জটিলতা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সহায়তা চেয়েছে। দিমিত্রিয়েভ নিজেই ওই তহবিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডিজেল রপ্তানির ওপর রাশিয়ার নিজস্ব আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
গত ৯ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, “রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করা হবে।”
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক আরও বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে আগের স্বাভাবিক পর্যায়ে নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
এলএসইজির জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দরে ডিজেলের আরও কয়েকটি চালান জাহাজে তোলা হয়েছে। তবে সেগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ ট্যাংকারের গন্তব্য হিসেবে জিব্রাল্টার, আটলান্টিক উপকূল অথবা পোর্ট সাইদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে রাশিয়া মূলত ব্রাজিল ও তুরস্কের পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে।