নিজের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলাকে একীভূত করে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন ইলন মাস্ক। এই পরিকল্পনাটি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার বাজারমূল্যের এক বিশাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্ম হবে, যা হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করপোরেট একীভূতকরণ।

ইলন মাস্ক জানিয়েছেন যে, স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ থাকায় তিনি এই উদ্যোগটিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন। তবে কমিটিগুলো এখনো একীভূতকরণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাবে পৌঁছাতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই একীভূতকরণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এই বিষয়ে মাস্ক বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন, স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূতকরণ নিশ্চিত। আমার মনে হয়, বিষয়টিকে এভাবে দেখা বাড়াবাড়ি হবে। আমি মনে করি, এটি ভালো সিদ্ধান্ত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন থাকতে হবে।’

যদি স্পেসএক্স ও টেসলা একীভূত হয়, তবে তা হবে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ করপোরেট একীভূতকরণ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলারের একটি একীভূতকরণ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে বর্তমান এই নতুন উদ্যোগের আর্থিক পরিধি হবে তার চেয়েও অনেক বেশি। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় স্পেসএক্সের অবস্থান সপ্তম এবং টেসলার অবস্থান ১১তম। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ বিশেষজ্ঞ জেরায়ার হালেব্লিয়ান মনে করেন, স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তিনি জানান, উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি হলো এই দুই প্রতিষ্ঠানেরই মূল শক্তি। ফলে প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উভয় প্রতিষ্ঠানেরই বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জিত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা অন্যটির ব্যবসায়িক কাজে লাগানো সম্ভব, যা একীভূত হওয়ার পর উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্পেসএক্স ও টেসলার একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মাস্কের এই মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। লেনদেন পরবর্তী সময়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, টেসলার শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত জুনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল স্পেসএক্স। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৪৪০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ১০৫ কোটি ডলার লোকসান হয়েছিল। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লোকসান কাটিয়ে স্পেসএক্স এখন উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করছে।