ফিফার সর্বোচ্চ পদের লড়াইয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্বের বিষয়টি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। যদিও পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়, তবে সেই বিতর্কের রেশ থাকা অবস্থাতেই আজ এশীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাঁর প্রতি সমর্থন জানাল।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসির একটি বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৫৬ বছর বয়সী জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সভায় এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা ইনফান্তিনোর প্রতি তাঁর এবং সংস্থার নিঃশর্ত সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছিল এএফসি। সেই সময়ে উয়েফা এবং কনকাক্যাফের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করে তারা। এই বিতর্কের জেরে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে সভাপতি পদের লড়াইয়ে নামার আগেই পদত্যাগের আহ্বানের মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো এবং বেশ কিছু ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনও হারিয়েছিলেন তিনি।
তবে শেখ সালমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইনফান্তিনোর পুনরায় ফিফা সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে নতুন করে গতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনি নতুন মেয়াদের জন্য লড়ছেন, আর আপনাকে ও আপনার নেতৃত্বকে সমর্থনের ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। আপনি এশিয়ার অনেক দেশ সফর করেছেন। এ মহাদেশের অনেক সদস্যের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। আমি আপনার অনুভূতি জানি এবং আমার মনে হয় আপনার প্রতিশ্রুতির বিষয়ও পরিষ্কার। জিয়ান্নির প্রতি আপনাদের সমর্থন অত্যন্ত স্পষ্ট।’
অতীতের মতবিরোধের কথা স্মরণ করে ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে শেখ সালমান বলেন, ‘জিয়ান্নি, হ্যাঁ, অতীতে আমাদের কিছু বিষয়ে কথা হয়েছিল। তবে দুটি বিষয়কে এক করে মেলানো ঠিক হবে না। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে...আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করি, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।’
বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর গত সপ্তাহে ক্ষমা চেয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এই সুইস নাগরিক। আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভাপতি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রার্থী হিসেবে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর।
অন্যদিকে, ইউরোপের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো এখনো ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনায় ব্যস্ত। তবে তাঁর বিপক্ষে লড়াই করার মতো বড় মাপের কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত নির্বাচনে নামার ঘোষণা দেননি। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপের অনেক শীর্ষ জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।