এল ক্লাসিকোর মহারণের আগে রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য একাদশের অধিকাংশ স্থান প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেলেও, কোচ হোসে মরিনহোর সামনে এখনও দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ফেদেরিকো ভালভের্দেকে কোন পজিশনে খেলানো হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগের সামগ্রিক বিন্যাস। পাশাপাশি রক্ষণভাগের মাঝখানের একজন খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়েও দোটানায় আছেন কোচ। বার্সেলোনার বিপক্ষে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই দুটি সিদ্ধান্তই এখন মরিনহোর প্রধান চিন্তার বিষয়।

আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রিয়াল। তবে এই বড় জয়ের রেশ থাকা সত্ত্বেও স্প্যানিশ জায়ান্টদের একাদশ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এল ক্লাসিকোর জন্য রিয়ালের একাদশের অধিকাংশ জায়গা প্রায় নিশ্চিত। গোলপোস্টের নিচে থাকবেন থিবো কুর্তোয়া। রক্ষণভাগে ইব্রাহিমা কোনাতে ও মার্ক কুকুরেয়া এবং মাঝমাঠে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির জায়গা নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। আক্রমণভাগে থাকছেন জুড বেলিংহাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিয়োমান্দে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র খেলতে না পারায় বাঁ প্রান্তের দায়িত্ব সামলাবেন দিয়োমান্দে। একাদশে ভালভের্দের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত হলেও, তার পজিশন নিয়ে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে ভালভের্দেকে কেন্দ্র করেই। গত কয়েকটি ম্যাচে উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডারকে রাইটব্যাক হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন মরিনহো। ভিয়ারিয়াল ও রোমার বিপক্ষে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষে শুরু থেকেই তিনি রক্ষণে খেলেছেন। এই দুই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স কোচকে সন্তুষ্ট করেছে।

যদি ভালভের্দেকে রাইটব্যাকে রাখা হয়, তবে মাঝমাঠ ও ডান প্রান্তে দুটি জায়গা খালি হবে। এই পজিশন দুটির জন্য লড়াই করবেন আর্দা গুলার, বের্নার্দো সিলভা ও এন্দ্রিক। এই তিনজনের মধ্য থেকে দুজনকে বেছে নিতে হবে মরিনহোকে। এই ক্ষেত্রে গুলার ও বের্নার্দো একসঙ্গে খেললে তাদের একজনকে ডান প্রান্তে যেতে হবে। অন্যদিকে এন্দ্রিককে সুযোগ দেওয়া হলে গুলার কিংবা বের্নার্দোর একজন চুয়ামেনির পাশে মাঝমাঠে খেলবেন। এএসের মতে, ভালভের্দেকে রাইটব্যাকেই রাখার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।

তবে মরিনহোর হাতে বিকল্প পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি চাইলে ভালভের্দেকে তার পরিচিত মাঝমাঠের ভূমিকায় ফিরিয়ে এনে চুয়ামেনির পাশে খেলাতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাইটব্যাকে জায়গা পেতে পারেন ডেনজেল ডামফ্রিস। এছাড়া ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডও বিবেচনায় রয়েছেন। এই পরিকল্পনায় গুলারকে ডান প্রান্তে খেলানোর সুযোগ থাকবে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো ভালভের্দেকে ডান উইংয়ে খেলানো। সেক্ষেত্রে মাঝমাঠে চুয়ামেনির সঙ্গী হতে পারেন গুলার। তবে এই বিন্যাসে রাইটব্যাক হিসেবে ডামফ্রিস অথবা ট্রেন্টের একজনকে বেছে নিতে হবে কোচকে।

লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এল ক্লাসিকোয় ভালভের্দেকে রাইটব্যাকে খেলাবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি মরিনহো। তবে উরুগুয়ের এই ফুটবলারের নৈপুণ্যের প্রশংসা করেছেন তিনি।

রিয়াল কোচ বলেন, “রোববারের ম্যাচ নিয়ে এখন কথা বলব না। শনিবার একই প্রশ্ন করলেও উত্তর দেব না। তবে এটুকু বলতে পারি, কঠিন একটি ম্যাচে ফেদে আবারও রক্ষণে ভালো খেলেছে। আক্রমণেও দারুণভাবে এগিয়েছে। ডান প্রান্তে আর্দা, বের্নার্দো ও ফেদের মধ্যে বোঝাপড়াও ছিল চমৎকার। সে অসাধারণ একটি ম্যাচ খেলেছে।”

ভালভের্দের অবস্থানের পাশাপাশি রক্ষণভাগের মাঝখানেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে মরিনহোকে। কোনাতের সঙ্গী হিসেবে লড়াই করছেন ডিন হাউসেন ও আন্তোনিও রুডিগার। বল পায়ে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হাউসেন এগিয়ে থাকলেও, শারীরিক শক্তি ও রক্ষণ সামলানোর অভিজ্ঞতায় এগিয়ে আছেন রুডিগার।

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত হাউসেন নয়টি এবং রুডিগার পাঁচটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। তবে বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে কাকে বেছে নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়।

সামগ্রিকভাবে এল ক্লাসিকোর আগে রিয়ালের একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে ভালভের্দের ভূমিকা এবং কোনাতের সঙ্গী নির্বাচনই নির্ধারণ করে দেবে মরিনহোর চূড়ান্ত ম্যাচ পরিকল্পনা। বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপরীতে রক্ষণ শক্তিশালী করবেন নাকি মাঝমাঠের সৃজনশীলতা বাড়াবেন, সেই সিদ্ধান্তই এখন নিতে হবে পর্তুগিজ কোচকে।