মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের এক নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্যানুসারে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) এবং শামীমা তাবাসসুম (৩১)।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকায় রনি শিকদারের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য, রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করার সময় শাকের হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি ওই কাউন্টারের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে মনে করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। তবে পরবর্তীতে গোসলের প্রস্তুতির সময় তার মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার রাতে শাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, শাকেরের সঙ্গে তার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই রনিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
শাকের হোসেন হত্যার দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা যাচাই এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।