মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) হিসেবে। গ্রেপ্তার রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য। মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকায় রনি শিকদারকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকায় তাঁর নিজ বাড়ি থেকে শামীমা তাবাসসুম নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই দুজনকে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত দুজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিহত শাকের হোসেনের সঙ্গে আমার ও ছোটভাই রনি শিকদারের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আমার ভাই যদি এই ঘটনায় জড়িত থাকে তাঁর বিচার আমিও চাই। কিন্তু এখানে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে নিহত শাকের হোসেনের স্ত্রী শারমিন আক্তার মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন শাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওই কাউন্টারের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে মনে করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। তবে পরবর্তীতে গোসলের প্রস্তুতির সময় তাঁর মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশকে অবহিত করেন। ময়নাতদন্তের পর তাঁর মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

শাকেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমবার শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে আজ দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।