লিগ পর্বের লড়াইয়ে ভারতের কাছে ৩৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলেও, ফাইনালের মঞ্চে তুলনামূলক অনেক দৃঢ় লড়াই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। তবে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ২৮-১৬ গোলের ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে এই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরুতেই ভারতকে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১০ মিনিট দুই দলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। তবে সময়ের সাথে সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারতীয় দল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সফরকারীরা ১৪-৯ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা এবং ব্যবধান কমানোর লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু ভারতের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলকিপারের অসাধারণ নৈপুণ্যের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। বিপরীতে, সুযোগ পেলেই গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিতে থাকে ভারত। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ মাত্র ৭টি গোল করতে সক্ষম হলেও ভারত আরও ১৪টি গোল করে। শেষ পর্যন্ত ১২ গোলের ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।

ভারতীয় দলের এই জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন গোলকিপার দিকশা কুমারী। বাংলাদেশের একাধিক গোলের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া পুরো প্রতিযোগিতায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভারতের ভাওয়ানা শর্মা।

এর আগে লিগ পর্বের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৪৭-১৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল নিসিরা। তবে নেপাল ও মালদ্বীপকে সমান ৩৩-২০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিকেরা। শিরোপা জয়ের ম্যাচে ভারতকে হারাতে না পারলেও, আগের ম্যাচের তুলনায় গোলের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে নেপাল, যারা ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মালদ্বীপকে পরাজিত করে।

ফাইনালে হারলেও দলের সামগ্রিক উন্নতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। তার বিশ্বাস, দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর সাথে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে আলোনসো বলেন, ‘টুর্নামেন্ট নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সঠিক পথেই আমরা এগোচ্ছি।’

তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্ষণভাগের উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এই স্প্যানিশ কোচ। তার মতে, কেবল হ্যান্ডবলের কৌশল জানলেই চলবে না, খেলোয়াড়দের পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শক্তি বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত রক্ষণকৌশল এবং দলীয় সমন্বয়ের উন্নতির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর দেশের মাটিতে আয়োজিত সিনিয়র পর্যায়ের আন্তর্জাতিক নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে না পারলেও, ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল নিসিরা।