আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ সীমিত এবং দীর্ঘ বিরতির পর টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার যে বাস্তব পরিস্থিতি, তাতে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে রানার্সআপ অর্জন করাটা বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের জন্য এক অনন্য সাফল্য।

আজ পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতের কাছে ২৮–১৬ গোলে পরাজিত হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে কেবল স্কোরলাইন দেখে এই ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের প্রকৃত চিত্রটি পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হবে না।

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে এই ভারতের কাছেই ৪৭টি গোল হজম করতে হয়েছিল বাংলাদেশ নারী দলকে। কিন্তু ফাইনালের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে মেয়েরা। ম্যাচের শুরুর ১৫ মিনিট দুই দলই সমানে সমান লড়াই চালিয়েছিল, যার ফলে স্কোরবোর্ডে ৬–৬ সমতা বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে ভারত কিছুটা এগিয়ে গেলেও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষে ১৪–৯ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত।

বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় নেয় ভারতীয় দল। উইং এবং পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে একের পর এক গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত ১২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চ্যাম্পিয়ন দলের ভাওয়ানা শর্মা টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন।

ফাইনালে পরাজয় ঘটলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো। তাঁর কণ্ঠে হতাশার চেয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই ছিল প্রবল। তিনি বলেন, “মেয়েদের আজকের (কাল) পারফরম্যান্স নিয়ে আমি আনন্দিত। তারা উন্নতি করছে। আমাদের এভাবেই এগোতে হবে। আমার মনে হয় দল সঠিক পথেই আছে।”

তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত কোচ। তাঁর মতে, দক্ষ হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি মেয়েদের একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের শুধু খেলোয়াড় হলেই হবে না, সামগ্রিকভাবে একজন অ্যাথলেট হতে হবে। একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়ের যতটুকু ফিটনেস দরকার সেটা থাকা জরুরি।”

ফিটনেসের পাশাপাশি রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ। তিনি মনে করেন, “রক্ষণভাগ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। কিছু কৌশল ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে, না হলে প্রতিপক্ষকে হারানো কঠিনই হয়ে যাবে। তাই এই টুর্নামেন্টের পর আমাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দলের রক্ষণভাগ ও ফিটনেসে।”

চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও দলের উন্নতির লক্ষণ দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি। গ্রুপ পর্ব এবং ফাইনালের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের যে পার্থক্য, সেখানেই তিনি উন্নতির ছাপ দেখছেন। অধিনায়ক বলেন, “আমরা কিন্তু আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো করেছি। আসলে যত বেশি ম্যাচ খেলতে পারব তত সবার দক্ষতা বাড়বে। আমরা তো ম্যাচই পাই না।”

উল্লেখ্য, নেপালকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হারলেও তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিকেরা। চার জাতির এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে নেপাল।