ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন সক্রিয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃতদের একই দিন বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড় ৫টার দিকে ফেনী শহরের লালপুল দশমী ঘাট রোডে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হন। ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থায়ন ও নির্দেশে পলাতক আসামি বেলাল হোসেন (৩০), মো. হাসান ঈশান (১৯), কাজী রশীদ আহমেদ রাফী (৩০) ও জহিরুল ইসলাম রিফাতদের (১৯) নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।

তারা ফেনী মডেল থানাধীন কালিদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কালীপাল দশমীঘাট সংলগ্ন ফেনী-লালপুলগামী পাকা রাস্তার ওপর ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। উক্ত ব্যানারে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম, প্রত্যাবর্তন-২ লোডিং, ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রলীগ” লেখার পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দীন নাসিম, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি সংবলিত ছিল। তারা সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও জনসংহতি বিপন্ন করার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. হেলাল তুহিন (১৯), এনায়েত হোসেন শাহরিয়ার (২০), মো. হাসান (১৯), মো. ইব্রাহিম (২১), শাহাদাত হোসেন (১৯), ইমাম হোসেন (১৭), মো. ইমাম হোসেন (১৯), মো. এমরান হোসেন (১৭), রাকিবুল ইসলাম (২০), মো. আশরাফুল ইসলাম (১৭), মো. জিহাদ (১৭), তারেক হোসেন (২২) এবং শাহাদাত হোসেন (১৯)।

এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের একই দিন বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, “গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী বলে পুলিশের নিকট স্বীকার করেছেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”