খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আগামী শনিবার অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ করার ডাক দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামক একটি সংগঠন। সাজেক এলাকায় সড়ক অবরোধ চলাকালীন হামলা, লাঠিপেটা এবং ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং সাজেকবাসীর বিভিন্ন দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সংগঠন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় চাকমার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি—এই দুই জেলায় অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠনসহ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির যানবাহন মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তবে মানবিক কারণে কিছু বিশেষ যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি, শববাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদকে মূলত ইউপিডিএফ-সমর্থিত একটি সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ইউপিডিএফের একজন সদস্য এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সংগঠনটি তাঁদের সমর্থিত নয়।

এর আগে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছিল। তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস–সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। তবে জেএসএস এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

এদিকে এই অবরোধের ফলে সাজেক থেকে ফেরার পথে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় আজ বাঘাইছড়ির উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার তাগিদে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালায় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।