শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউর রহমানকে (৫৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি-৮ এবং এসআরবি-১১-এর একটি যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির। গ্রেপ্তারকৃত আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের সন্তান বলে জানা গেছে।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ থানা সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি পেশায় গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিনই ভেদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এসআরবি-৮-এর একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির জানান, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেদরগঞ্জের শিক্ষক হত্যা মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হয় এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তারা। গ্রেপ্তারকৃত আতাউর রহমানকে আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে এসে গত রোববার রাতে আবুল বাশার তার স্ত্রীকে শেষবার ফোন করে এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরদিন সোমবার আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার স্ত্রীকে ফোন করে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানানো হয় এবং প্রথমে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি পরিবার দ্রুতই কালিয়াকৈর থানায় জানালে পুলিশ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান ভেদরগঞ্জে শনাক্ত করে। পরে স্বজনরা ভেদরগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন।