মানুষ ক্রমাগত ধোঁকা, শোষণ, বঞ্চনা এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। তিনি মনে করেন, জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফেনী জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকনদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির capacity-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আরেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মাওলানা এটিএম মাছুম হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, “ইব্রাহিম (আ.) যেভাবে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, সেভাবে তারাও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে যখন নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হবে, তখন সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে মজবুত ইমানের অধিকারী হওয়া এবং নিয়তের মধ্যে ইখলাস রাখা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “দ্বীনের কাজের ক্ষতি করে দুনিয়ার কাজে মশগুল থাকলে চলবে না। এটাই ইখলাসের বিষয়। মুমিন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবেন। মুমিন কখনও হতাশ, নিরাশ বা ভেঙে পড়বেন না।”
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলে মাওলানা এটিএম মাছুম দাবি করেন, “১৯৭১ সাল নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়, সেগুলো সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।”
এছাড়া, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির পরিবেশবিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ফেনী জেলার সাবেক আমির একেএম শামছুদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খোন্দকার, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমাদ, লন্ডনপ্রবাসী নেতা অধ্যাপক মফিজুর রহমান (ভার্চুয়ালি), জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউছুফ এবং জেলার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন প্রমুখ।