বরিশালের বানারীপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে বাঁশ সরানোর সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুল সংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মৃত শ্রমিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে সোহাগ (৪২)।
সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ওই ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে দুই শ্রমিক সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে থাকা বাঁশ খুলতে যান। সেই সময় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তারা অচেতন হয়ে ভেতরে পড়ে যান। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর তাদের উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা খবরটি পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস থাকায় প্রথমে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেনের সহায়তায় গ্যাস অপসারণ করে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।”
এদিকে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়ে জানান, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিয়াজ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।