তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গিটারের জাদুকরী সুরে দেশের নামী-দামী বহু সংগীতশিল্পীর গানের সঙ্গী হয়েছেন রাসেল খান। সংগীতাঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় এই মুখটি আর আমাদের মাঝে নেই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে তাঁর বড় বোনের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। যন্ত্রসংগীতশিল্পী আজমীর বাবু মুক্তকণ্ঠকে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন রাসেল খান। আজ সকালে বড় বোনের বাসার বাথরুমে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। এরপর চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মতে, তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল।

একজন দক্ষ গিটারবাদক হিসেবে দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের প্রথম সারির প্রায় সব সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন রাসেল খান। মঞ্চে শিল্পীদের গানের সাথে তাঁর গিটারের সুর ছিল এক অবিচ্ছেদ্য ও চেনা অনুষঙ্গ। গিটার বাজানোর পাশাপাশি মাঝেমধ্যে তিনি নিজেও গান গাইতেন। গত ১৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে গিটার বাজিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল তাঁর জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা।

রাসেল খানের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সংগীতাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শিল্পী এবং শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করছেন। একসঙ্গে কাজ করার নানা স্মৃতি রোমন্থন করে তাঁকে স্মরণ করছেন অনেকেই।

আজ বেলা সাড়ে তিনটায় বনানীতে বড় বোনের বাসার পাশের মসজিদে রাসেল খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রমপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানেই তাঁকে সমাহিত করা হবে। রাসেল খান স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।