ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির রাজকীয় বিমানবাহিনীর (আরএএফ) এই যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে। উল্লেখ্য, হুতিরা 'আনসার আল্লাহ' (যার অর্থ আল্লাহর সাহায্যকারীরা) নামেও পরিচিত।

গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজে ব্যবহার করা হবে। এগুলো ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালাবে না।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে তীব্র লড়াই চলমান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব।

গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। দেশটির তেল স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরবকে সহায়তায় যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের শতাব্দীপ্রাচীন সামরিক অংশীদারত্বের সর্বশেষ অধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। তবে তখনো সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি।

যুক্তরাজ্য সৌদি আরবে ঠিক কী পাঠাচ্ছে এবং কীভাবে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠল, তার বিস্তারিত ইতিহাস রয়েছে। ইন্ডিয়া অফিসের একটি স্মারকলিপি অনুযায়ী, ১৯২৭ সালের মে মাসে জেদ্দায় আবদুল আজিজের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করে ব্রিটেন। এরপর ১৯৩২ সালে আবদুল আজিজ সৌদি আরব রাষ্ট্র বা সৌদি কিংডম প্রতিষ্ঠা করেন।

যুক্তরাজ্য পাঠাচ্ছে যুদ্ধবিমান, একটি এ৪০০এম পরিবহন উড়োজাহাজ এবং সামরিক উপদেষ্টা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তার মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বিমান অভিযানে থাকাকালে এ ধরনের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করার অভিযানও রয়েছে।

এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় মহাফেজখানায় সংরক্ষিত ইন্ডিয়া অফিসের নথি অনুযায়ী, ১৯১৫ সালের ডিসেম্বরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্যার পার্সি কক্স সৌদি শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের সঙ্গে দারিন চুক্তি করেন। তখন আবদুল আজিজ মধ্য আরবের নাজদ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। চুক্তির বিনিময়ে আবদুল আজিজ ওসমানী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সঙ্গে জোট বাঁধেন। অন্যদিকে ব্রিটেন তাঁকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে।

ইন্ডিয়া অফিসের একটি স্মারকলিপি অনুযায়ী, ১৯২৭ সালের মে মাসে জেদ্দায় আবদুল আজিজের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করে ব্রিটেন। এরপর ১৯৩২ সালে আবদুল আজিজ সৌদি আরব রাষ্ট্র বা সৌদি কিংডম প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনের পরিস্থিতি এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৬২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইয়েমেনের মুতাওয়াক্কিলিয়া রাজতন্ত্র উৎখাত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র। নতুন প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন দিতে সেনা পাঠায় মিসর। অন্যদিকে সৌদি আরব ও জর্ডান ক্ষমতাচ্যুত ‘ইমাম’কে পুনর্বহালের চেষ্টায় থাকা রাজতন্ত্রপন্থীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। ১৯৬৬ সাল নাগাদ ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ অচলাবস্থায় পৌঁছায়।

তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি স্মারকলিপি অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের মে মাসে সৌদি আরব ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট করপোরেশনের সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি করে। এসব চুক্তির আওতায় ৪০টি লাইটনিং যুদ্ধবিমান, ২৫টি জেট প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ এবং একটি রাডারব্যবস্থা কেনার কথা ছিল।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের এডেন ও আশপাশের অঞ্চলে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছিল। এসব বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মিসর। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ব্রিটেন ওই অঞ্চল থেকে সরে যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ সুলতান যুক্তরাজ্যের কাছে একটি প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনে আবার যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরবের পরিচয়ে অভিযান চালানোর জন্য ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন (একাধিক যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত সামরিক ইউনিট) সরবরাহের অনুরোধ করেন তিনি।

সৌদির প্রস্তাবের জবাবে ব্রিটেন নিজেদের বৈমানিকদের পরিচালনায় যুদ্ধবিমান দেওয়ার পাল্টা–প্রস্তাব দেয়। প্রয়োজন হলে স্বল্প সময়ের জন্য রাজকীয় বিমানবাহিনীর লাইটনিং যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন পাঠাতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানায় ব্রিটেন। এসব যুদ্ধবিমানের কাজ ছিল শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিহত করা। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব যুদ্ধবিমান ও বেসামরিক বৈমানিকদের গ্রহণ করে। ফলে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে।

ব্রিটিশ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের আগের নাম ছিল ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। ব্রিটেন ও সৌদি সরকার ১৯৭৩ সালে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে, যাতে ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট করপোরেশনকে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

১৯৮৫ সালে ব্রিটেন ও সৌদি আরব তেলের বিনিময়ে অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি করে। ‘আল-ইয়ামামা’ নামে পরিচিত এই চুক্তির আওতায় টর্নেডো ও হক যুদ্ধবিমান কেনার কথা ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বর্ণনা অনুযায়ী, আল-ইয়ামামা চুক্তিগুলো ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রপ্তানি চুক্তি। টর্নেডো যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মূল্য পরিশোধে সৌদি আরব দৈনিক সর্বোচ্চ ছয় লাখ ব্যারেল তেল বরাদ্দ রেখেছিল।

এই চুক্তি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০০৪ সাল থেকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিস বা গুরুতর আর্থিক জালিয়াতির তদন্তকারী সংস্থা। তবে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের একটি রায়ে এ তথ্য রয়েছে। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল লর্ড গোল্ডস্মিথ জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তাকে তদন্ত বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে সৌদি বাদশাহ ফাহাদ মিত্রদেশগুলোর কাছে সহায়তা চান। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ১১ আগস্ট সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে ১২টি টর্নেডো যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের দাহরানে যায়। এরপর ১৯৯০ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবুকে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর আরও টর্নেডো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে দাহরানেও অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়।

যুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী টম কিং পার্লামেন্টকে জানান, “সৌদি আরব যুক্তরাজ্যকে নিজেদের ভূখণ্ডে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

সৌদি আরবে অবস্থান করা একটি টর্নেডো যুদ্ধবিমান নিখোঁজ হয়েছিল, যা শত্রুপক্ষের হামলায় হারানো ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে চতুর্থ ছিল। পরে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ আকাশসীমায় টহল দেয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের ঘাঁটি থেকে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সৌদি আরব ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের কাছ থেকে ৭২টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনতে রাজি হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছিল। সৌদি বিমানবাহিনীর টর্নেডো ও অন্য যুদ্ধবিমানগুলোর জায়গায় নতুন টাইফুনগুলো যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। চুক্তির মূল্য ছিল ৪৪৩ কোটি পাউন্ড, যা তৎকালীন বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৮৯০ কোটি ডলার। টাইফুন যুদ্ধবিমান নির্মাতা বিএই সিস্টেমস এই চুক্তির নাম দিয়েছিল ‘সালাম প্রকল্প’।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালের মার্চে লন্ডন সফর করেন। ওই সফরের সময় আরও ৪৮টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করতে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অভিপ্রায়পত্র সই করে যুক্তরাজ্য। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএই সিস্টেমস এ তথ্য জানিয়েছিল। তবে চুক্তিটি আটকে যায়। টাইফুন যুদ্ধবিমান তৈরিতে জার্মানিও অংশ নেয় এবং এসব যুদ্ধবিমান রপ্তানিতে আপত্তি জানিয়ে তা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে দেশটির।

২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেয় জার্মানি। খাসোগি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক ছিলেন এবং তিনি সৌদি যুবরাজ ও তাঁর নীতির সমালোচনা করে লিখতেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে নিজেদের আপত্তি প্রত্যাহার করে বার্লিন। তৎকালীন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছিলেন, “২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় পরিণত হয়েছে।”

ওই দিন ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। এরপর গাজায় জাতিগত নিধন শুরু করে ইসরায়েল। ওই বছর বিএই সিস্টেমস জানিয়েছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় তারা যুক্তরাজ্য সরকারকে সহায়তা করছে।

যুক্তরাজ্য নিজেও হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অংশ নেয় ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুতিদের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ওই অভিযান চালায়।

যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত ২০১৯ সালের জুনে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। এর পাঁচ বছর আগে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে, ফলে দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। আপিল আদালত রায়ে বলেন, “ইয়েমেনে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন অস্ত্র সৌদি আরবে বিক্রির অনুমতি দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার বেআইনি কাজ করেছে। কারণ, এর আগে সংঘটিত ঘটনাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না, সরকার তা মূল্যায়ন করেনি।”

এরপর নতুন করে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। তবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রাস পার্লামেন্টকে জানান, আবার অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেওয়া শুরু হবে। তাঁর বক্তব্য ছিল, “গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কাজে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ার সুস্পষ্ট ঝুঁকি নেই।”

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সহায়তায় একটি ভয়েজার জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ পাঠায় যুক্তরাজ্য। এই উড়োজাহাজের কাজ আকাশে উড্ডয়নরত যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করা। সৌদি বিমানবাহিনীর যেসব যুদ্ধবিমানকে এটি জ্বালানি দেয়, সেগুলো যুক্তরাজ্যে তৈরি টাইফুন যুদ্ধবিমান।