ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইরানপন্থী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই হতাহতের তথ্যের নিশ্চিত করেছে।

সরকারি বাহিনীর একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকালে শাবওয়া প্রদেশের আল–আলম সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। হামলার সময় ওই কেন্দ্রে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল।

ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো প্রাথমিক তথ্যে জানিয়েছিল, এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রথমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জন এবং আহতদের সংখ্যা ২০০ জনে পৌঁছায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুসারে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল–আলিমি জানিয়েছেন, শাবওয়ায় নিহত হওয়া ব্যক্তিরা সবাই ছিলেন নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্য। তিনি এই নৃশংস হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

রাশেদ আল–আলিমি আরও বলেন, ‘নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা থেকে এটাই বোঝা যায়, চাপে পড়লে হুতি মিলিশিয়ারা সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নেয়।’

অন্যদিকে, সানা থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন যে, হুতিরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইউসূফ বলেন, ‘হুতিরা জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি–সমর্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি। সেখানেই সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। ইয়েমেনজুড়ে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে এসব সেনা মোতায়েন রয়েছে।’

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেখানে সৌদি আরব–সমর্থিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন, সেখানেই হামলা চালানোকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাইজ শহরের দক্ষিণ দিকে আল-আকরুধ, আল-শাকাব ও আল-সারারি এলাকায় হুতিদের জড়ো হওয়া সদস্য, যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক সংঘাতের ফলে তাইজের সাধারণ অধিবাসীরা তীব্র জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মতো চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।

বর্তমানে ইয়েমেনের একটি বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনী সৌদি আরবের সমর্থনে এসব এলাকা পুনরুদ্ধারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক ও সামরিক লড়াইয়ের কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।