নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে দায়ের কোপে শাহিন মিয়া (২২) নামের এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত বুধবার বিকেলে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর সন্ধ্যায় রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনকে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাহিন খলাপাড়া গ্রামের resident আওলাদ হোসেনের পুত্র। তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ, নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আওলাদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই মোকারম মিয়ার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। গতকাল বিকেলে আওলাদের বাড়ির ইটের স্তূপ থেকে কিছু ইট সরিয়ে নিচ্ছিলেন মোকারম। এই কাজে আওলাদ বাধা প্রদান করলে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে মোকারমের ছেলে রাব্বি একটি দা নিয়ে সামনে আসেন। বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার সময় রাব্বির দায়ের কোপে গুরুতর আহত হন শাহিন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র চার দিন আগে শাহিন এক পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন। এই খুশির সংবাদে ছুটি নিয়ে তিনি নরসিংদীতে ফিরেছিলেন। গত কয়েক দিন তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াত করেছেন। গতকালই তাঁরা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন, আর তার কিছু পরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোকারম ও তাঁর ছেলে রাব্বি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান। তিনি আরও জানান, “এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের পুলিশের হেফাজতে নিতে অভিযান চলছে।”