নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নিখোঁজ কিশোর মনির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শিকদারপাড়ার দরগাসংলগ্ন একটি বড়বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে সোমবার বিকেলে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ভেসে আসতে দেখে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং কচুরিপানা সরাতেই মরদেহটি ভেসে ওঠে।

নিহত কিশোর মনির হোসেন (১৭) রায়পুরার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার শাহ আলম মিয়ার সন্তান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আদিয়াবাদের শিকদারপাড়ার দরগাসংলগ্ন বিলের আশপাশে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এর উৎস খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিলে প্রবেশ করেন এবং কচুরিপানা টান দেওয়ার সাথে সাথে একটি মরদেহ ভেসে ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে নিখোঁজ মনির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পুলিশ সুরতহাল সম্পন্ন করার পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম জানান, পরনের কাপড় দেখে স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করেছেন। তিনি আরও জানান, নিহত কিশোরের গলায় তার নিজেরই কোমরের বেল্ট পেঁচানো ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মনির হোসেনের বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে লাশটি বিলের কচুরিপানার নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ ১১ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের পরদিন রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। আজ লাশ উদ্ধারের খবর পেয়েই পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং পোশাক দেখে মনির হোসেনকে শনাক্ত করেন।

সন্তান হারানো শোকাতুর বাবা শাহ আলম মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এইটুকু ছেলেকে মেরে ফেলতে হবে? ছেলেকে তো আর পাব না। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’