নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাদকাসক্তির কারণে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি হিসেবে এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম তারেক মিয়া (২৮)।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তারেক দীর্ঘকাল ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবা অলিউর রহমান তাঁর হাত-পা বেঁধে তাঁকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক মিয়া দীর্ঘ সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেছিলেন। তবে সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার পুলিশ তাঁকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়। আড়াই বছর আগে দেশে ফিরে আসার পরও তিনি মাদকের নেশা থেকে মুক্তি পাননি। স্থানীয় কিছু তরুণের সঙ্গে মিশে তিনি পুনরায় মাদকের জালে জড়িয়ে পড়েন। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য তিনি প্রায়ই নিজের মা ও বাবাকে প্রচণ্ড মারধর করতেন। ছেলের এই অমানুষিক অত্যাচারে তাঁর পরিবার চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
এলাকার একাধিক প্রতিবেশীর দেওয়া তথ্যানুসারে, গতকাল বুধবার রাতে নেশার টাকার দাবিতে তারেক তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা অলিউর রহমান তাঁর হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরপরই চাপাতি দিয়ে তাঁর মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারেকের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর রশীদ জানান, তারেক মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতেন। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাবা অলিউর রহমান নিজের ছেলেকে হত্যা করেছেন।
পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আজ ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে সুরতহাল সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবকের মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল। তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা অলিউর রহমান নিখোঁজ বা পলাতক রয়েছেন।
এই ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, “ওই যুবকের মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত বাবা অলিউর রহমান পলাতক।”