প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে নতুন করে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন সকল দপ্তর ও সংস্থার কাছে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পনা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট সকল আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে একটি চিঠি জারি করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “দীর্ঘদিনের প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, এই অর্থবছরের মেয়াদ সাধারণ ১২ মাসের পরিবর্তে ৯ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জুলাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত চলবে।
পরবর্তীতে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কালকে নিয়মিত অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করে সরকারি যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “নতুন অর্থবছর কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ২০ ২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর আগেই, অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ফলে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতীয় উৎপাদন ও পরিসংখ্যানগত কাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে আইবাস++, ভ্যাট ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে নতুন অর্থবছরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং পরিসংখ্যানগত ও তথ্যপ্রযুক্তিগত কাঠামো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এই পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে কোথায় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন অর্থবছর ব্যবস্থায় সরকারি কার্যক্রমের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
এই নির্দেশনার আওতায় রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একই সাথে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন, আইন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অডিট, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং আইসিটি শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগকেও এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মূলত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা সংগ্রহের মাধ্যমে নতুন অর্থবছর কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়াই এই জরুরি নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।