নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন ১১ জন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু করে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে শিয়ালের কামড়ে আহত ১১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে ২ জন নারী এবং ৯ জন পুরুষ রয়েছেন। তাঁরা পৌরসভার ঘোরলাজ, নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল ও পোড়াবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে একজন হলেন বাগাতিপাড়ার তমালতলা এলাকার পলি খাতুন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলা চত্বর এলাকায় তিনি শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন এবং কামড়ে আহত হন।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শামুন আল হাসান জানান, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। তবে তাঁদের চিকিৎসা প্রদানে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “শিয়ালের কামড়ে আতঙ্কিত না হয়ে ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার প্রবহমান পানিতে অন্তত ১৫ মিনিট ধুতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।”

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় ওই ১১ জন চিকিৎসা নেওয়ার পর আজ সকাল পর্যন্ত আর কোনো শিয়ালে কামড়ের রোগী হাসপাতালে আসেননি।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শিয়ালের কামড়ে এতজনের আহত হওয়ার ঘটনা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছে। বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রাজশাহী থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া এলাকাবাসীকে সচেতন করতে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হবে।”