ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরবকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যর্থতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি নিজেই এখন প্রাণ বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় খুঁজছেন। পাশাপাশি রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিষয়টিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গবেষক জাকির হোসেন এশিয়া টাইমসে এই জটিল পরিস্থিতির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন। মুক্তকণ্ঠের পাঠকদের জন্য লেখাটি অনুবাদ করেছেন রাফসান গালিব।

চতুর্দশ শতকের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-মুকাদ্দিমা’য় উল্লেখ করেছিলেন, ‘সক্ষম উত্তরসূরি তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় তৃতীয় প্রজন্মের পর অনেক শক্তিশালী রাজবংশের পতন ঘটে।’ বর্তমান সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে ঠিক এই প্রশ্নটিই প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে রাজবংশকে তিনি আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করার কথা ছিল, তিনি কি প্রকৃতপক্ষে সেই রাজবংশকেই দুর্বল করে ফেলেছেন?

বর্তমানে সৌদি আরব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় দিক থেকেই প্রচণ্ড চাপের সম্মুখীন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যেসব কৌশল ও নীতির ওপর আস্থা রেখেছিলেন, সেগুলো একের পর এক ব্যর্থ হতে দেখা যাচ্ছে। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, ইয়েমেনে হুতিদের পরাজিত করে সেখানে নিজেদের অনুগত একটি সরকার গঠন করতে পারবেন। পাশাপাশি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌদি অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনবেন। আর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, যাকে তিনি নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে পাশে পেয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, এই তিনটি হিসাবই একসাথে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

অনেকের মতে, এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ক্ষমতা হস্তান্তর। মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিবর্তে একজন উপযুক্ত উত্তরসূরিকে দায়িত্ব দেওয়া, দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা এবং দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলো কার্যকর করা প্রয়োজন। অন্যথায়, সৌদি আরব ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। ক্ষমতার লড়াইয়ে থাকা অন্যান্য রাজপুত্রেরা এই খণ্ডিত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, যা বর্তমান সৌদি আরবের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে।

সৌদি আরবের বিপুল খনিজ ও তেল সম্পদের প্রতি বহিঃশক্তির দীর্ঘদিনের লোভ রয়েছে। দেশটিতে প্রচুর জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি আনুমানিক ১১ কোটি ৪০ লাখ টন ইউরেনিয়ামযুক্ত আকরিক ও বিরল খনিজ মজুত আছে। এই সম্পদের লোভে পড়ে বাইরের শক্তিগুলো দেশটিকে ভাগ করে নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

ইরান ইস্যুতে সৌদি আরব তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন আরব দেশটি নিজেই পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পশ্চিমা দেশগুলোর হুতিদের বিরুদ্ধে যুবরাজের পাশে দাঁড়াতে অনীহা এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের জন্য সুফলের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বাড়িয়েছেন। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা। অথচ তাঁর শাসনামলেই সৌদি আরবের শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি আরব বছরে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৩ শতাংশই ব্যয় করে সৌদি আরব।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারান। এই ধরনের হামলার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও সৌদি আরব এখন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

২০১৫ সালে যখন মোহাম্মদ বিন সালমান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ওই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করেন। আট বছর ধরে চলা সেই সংঘাতের ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন বোমা হামলা ও অবরোধের কারণে ইয়েমেনে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়, যাতে প্রায় সাত লাখ ইয়েমেনি প্রাণ হারান।

প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও সৌদি রাজতন্ত্র হুতিদের পরাজিত করতে পারেনি, অথচ হুতিদের সামরিক বাজেট ছিল আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি ডলারেরও কম। সমালোচকদের দাবি, সৌদি আরবের সামরিক ব্যয়ের বড় অংশ বাইরের শত্রুর মোকাবিলা করার পরিবর্তে যুবরাজের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং তাঁর শাসন টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বিপুল সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে যুবরাজের বিরুদ্ধে। তাঁর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পেছনে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন।

সৌদি সরকারের কড়া সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে ইস্তাম্বুলে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। খাসোগি তাঁর লেখায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যর্থ হলে দেশটি একসময় এই অঞ্চলের অন্যতম দরিদ্র রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সৌদি আরবের তাবুক প্রদেশে শুরু হওয়া বিশাল স্মার্ট অঞ্চল প্রকল্প ‘নিওম’ কার্যত দেউলিয়া হওয়ার পথে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ফাঁস হওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটির আর্থিক দুরবস্থার চিত্র পাওয়া গেছে। নিওমের আওতায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সরলরেখার মতো একটি শহর ‘দ্য লাইন’ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো ও ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় এই প্রকল্পের পরিসর কমিয়ে আনা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ‘দ্য লাইন’ প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ সৌদি আরবকে বড় অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে। পরবর্তীতে বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অবরোধ এবং হুতি ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়ে সরকারের আয়ের প্রধান উৎস সংকুচিত হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি যুবরাজ প্রায়ই এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে অথবা ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত আশ্রয়ে চলে যান। ধারণা করা হয়, ড্রোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হামলা এড়াতেই তিনি এমনটা করছেন। হুতিরা এখনো তাঁর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি, তবে রাজপরিবারের ভেতরের শত্রু ও ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবে রাজাকে হত্যার নজির রয়েছে। যোগ্য শাসক হিসেবে বিবেচিত বাদশাহ ফয়সাল নিজের পরিবারেরই এক সদস্যের হাতে নিহত হয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

ঐতিহ্যগতভাবে সৌদি আরবে ক্ষমতা হস্তান্তর হতো একই প্রজন্মের ভাইদের মধ্যে। ইবনে সৌদের ছেলেদের মধ্যে এক ভাইয়ের পর আরেক ভাই রাজা হতেন; বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো রীতি ছিল না।

কিন্তু ২০১৭ সালে বাবার সমর্থন নিয়ে সেই প্রথা ভেঙে দেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মনোনীত উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে তিনি নিজেই ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাসাদের ভেতরে কার্যত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবং মোহাম্মদ বিন নায়েফ এখনো গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচকেরা এই ঘটনাকে নির্লজ্জ ক্ষমতা দখল হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। বিদ্রূপের বিষয় হলো, অভ্যুত্থানের অভিযোগে আটক রাজপুত্রদের বিরুদ্ধেই বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ক্ষমতা দখলের বিনিময়ে যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে ওয়াশিংটন সাধারণত বিনা স্বার্থে কাউকে এমন সুবিধা দেয় না।

তবে এটিও সত্য যে, ২০২১ সালে যুবরাজ বাস্তববাদী কূটনীতির পথ বেছে নেন। ওই বছর তিনি কাতারের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেন এবং হুতিদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই চুক্তি হলে সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিত। কিন্তু ইরান যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর এখন আর সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে না।

ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য ছিল তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। কিন্তু যুবরাজ মোহাম্মদের বিভিন্ন পদক্ষেপে অর্থনীতির ওপর চাপ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তেলের আয়ের ওপর নির্ভরতা কমার বদলে আরও বেড়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে।

একসময় বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুবরাজের নীতিতে সৌদি আরব এখন স্পষ্টতই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেই অবনতির গতি কতটা দ্রুত তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ঋণের বোঝা যে বাড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

হুতিদের হামলায় সৌদি আরব যখন নজিরবিহীন নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে, তখন ইউরোপের কোনো দেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়াতে আসেনি। এখন পর্যন্ত কেবল অন্য মুসলিম দেশগুলো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে তাদের প্রত্যেকের স্বার্থ ও লক্ষ্য এক নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেই সুযোগে বৃহত্তর ‘ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিকদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ২৭ বছরের নিচে। এই তরুণদের উচিত যুবরাজ মোহাম্মদের ‘স্বাধীনতা’ ও ‘আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে প্রশ্ন তোলা যে, তাঁর নীতিগুলো আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে? যুবরাজের গৃহীত নীতি কি তাঁর ক্ষমতা সুসংহত করছে, নাকি সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করছে?

সৌদি আরব আগে কখনো একই সঙ্গে এতটা অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের ঝুঁকি এবং বাইরের চাপের মুখে পড়েনি।

ড. জাকির হোসাইন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্ব পরাশক্তির ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেন। এর আগে তিনি নয়াদিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (আইডিএসএ) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর থিংকট্যাংক ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশনের (এনএমএফ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ।