‘বার্নাব্যুর রাত প্রতিপক্ষের জন্য দীর্ঘ হয়’—রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ নিয়ে এই কথাটি ফুটবল বিশ্বে বেশ প্রচলিত। নিজেদের মাঠের আধিপত্যের মাধ্যমে ক্লাবটি বারবার এই কথাটি সত্য বলে প্রমাণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আরও একটি অনন্য কীর্তি যুক্ত করল রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে আসা প্রতিপক্ষদের জন্য রিয়ালের আতিথেয়তা এখন গোল হজমের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল রাতে বার্নাব্যুতে লাইপজিগের মুখোমুখি হয়ে ৪–১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে বের্নার্দো সিলভার করা প্রথম গোলেই রচিত হয়ে যায় এক নতুন ইতিহাস। চ্যাম্পিয়নস লিগের ঘরের মাঠের লড়াইয়ে টানা ৪৫ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করল রিয়াল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টানা ৪৫ ম্যাচে গোল করার এই মাইলফলক স্পর্শ করল মাদ্রিদের এই ক্লাবটি।
মজার বিষয় হলো, এই নতুন রেকর্ড গড়তে গিয়ে রিয়াল ভেঙেছে তাদের নিজেদেরই পুরনো রেকর্ড। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠে টানা ৪৪ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের। তবে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর সিএসকেএ মস্কোর কাছে ঘরের মাঠে ৩–০ গোলের পরাজয়ের ফলে সেই ধারায় ছেদ পড়েছিল।
সেই একটি ম্যাচের বিরতির পর আবারও শুরু হয় গোলের জোয়ার। তারপর থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছে রিয়াল। অর্থাৎ, বার্নাব্যুতে টানা ৪৪ ম্যাচে গোল করার পর একটি ম্যাচে বিরতি দিয়ে পুনরায় গোল করার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা এখন নতুন রেকর্ডে পরিণত হয়েছে। হিসাব করলে দেখা যায়, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে সর্বশেষ ৯০টি ম্যাচের মধ্যে ৮৯টি ম্যাচেই গোল করেছে মাদ্রিদের এই ক্লাবটি।
জার্মান ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে গতকাল রাতের জয় নিশ্চিত করতে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরদা গুলের এবং ইয়ান দিওমান্দেও গোল করেছেন। দলের এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও মনে করেন, সমর্থকরা ম্যাচটি উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘এমবাপ্পে ও দিওমান্দের জুটি দেখে সমর্থকেরা খুশি মনে বাড়ি ফিরেছেন।’
তবে প্রশ্ন উঠেছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিয়ে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে তুলে নিয়ে দিওমান্দেকে মাঠে নামান মরিনিও। বর্তমানে মাঠে ভিনির সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। গতকাল রাতের ম্যাচসহ শেষ দুটি ম্যাচে তিনি সফলভাবে কোনো ড্রিবলিং করতে পারেননি, যা তার স্বাভাবিক খেলার ধারার সাথে একেবারেই মানানসই নয়। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা মাত্র একটি এবং শেষ ৯ ম্যাচে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে মনে হয়, দিওমান্দে ধীরে ধীরে ভিনির একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠছেন।
তা সত্ত্বেও গতকাল রাতে ভিনির পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘ভিনি ভালো খেলেছে। দারুণ একটি গোল করতে পারত কিন্তু গোলকিপারের সেভও দারুণ ছিল। বলব না তার মন খারাপ, এটি এমন অনুভূতি যা শুধু সে ব্যাখ্যা করতে পারে, তবে তার কোচ খুশি। কষ্টে থাকলে তার কারণ সে দল ও সমর্থকদের জন্য অনেক কিছু দিতে চায়।’
এখন রিয়ালের সামনে অপেক্ষা করছে মর্যাদাপূর্ণ ‘এল ক্লাসিকো’। লা লিগার লড়াইয়ে আগামী রোববার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে মরিনিও কতটা আত্মবিশ্বাসী, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি বলেন, ‘এটা স্রেফ আরেকটি লিগ ম্যাচ। তবে অন্য ম্যাচগুলোর মতো নয়। আমরা প্রস্তুত হয়েই যাব।’