সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের নির্দিষ্ট কিছু কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা কারণগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। টমি পিগট উল্লেখ করেন যে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমেই আরও বেশি শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে দেশটির বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো অন্যতম। তিনি জানান, এই ধরনের হামলায় সাধারণ বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং দেশটির সামগ্রিক যাতায়াতব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে টমি পিগট আরও বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্র সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছে, কেবল সৌদি আরব নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার এবং বাহরাইন থেকেও মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে টমি পিগট এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বুধবারের এই বিশেষ নির্দেশটি শুধুমাত্র সৌদি আরবে কর্মরত সেইসব মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের জন্য, যাঁদের সেখানে অবস্থান করা বর্তমানে জরুরি নয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।
চলতি মাসে সৌদি আরবে প্রায় প্রতিদিন হুতিদের হামলা লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলাটি অন্যতম, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই হামলাগুলোর সংখ্যা বাড়ছে।
গত বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সেই ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পড়ার ফলে দুজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হামলার চেষ্টায় দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের একজন ফিলিপাইনের, অন্যজন নেপালের নাগরিক। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সীমান্তের নিকটবর্তী সৌদির শায়বা তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে এই ড্রোনটি কারা পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য প্রদান করেনি।
এর আগে বুধবার ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে যে, তারা মোট ছয়টি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম বিমানবন্দরে এক হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির বিমান চলাচলবিষয়ক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। এর ফলে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া সংঘাত পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন একটি জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে।