রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।

আজ রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগেও যখন হুতিরা আক্রমণ করেছিল, সেখানে কিন্তু বাংলাদেশের একজন নিহত হয়েছিল। এখন দুইজন নিহত হলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিগত দিনে ১৪ জন বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যে হারানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা আশা করব যে, এই বিপর্যয় বন্ধ হবে, এই আক্রমণ বন্ধ হবে। এই ধরনের মৃত্যু আসলে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’

গতকাল রিয়াদের ওই হামলার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন। দুর্ঘটনায় দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা হলেন, বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।

রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ইউএস-বাংলা, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের বাংলাদেশি যাত্রীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে (যারা আহত হননি) ১৭ জন ম্যারিয়ট হোটেলে, ২৫ জন রেডিসন হোটেলে এবং ৪০ জন প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত ৪ জন আহত অবস্থায় কিং খালিদ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তাদের সঙ্গে অক্ষত অবস্থায় দুইজন যাত্রীও রয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আল্লাহতায়ালার কাছে দোয়া করছি, আল্লাহতায়ালা তাদেরকে যেন বেহেশত নসিব করেন এবং আশা করছি যেন আর কোনো খারাপ খবর আমরা শুনতে পাব না।’

প্রতিমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় একটি কথা বলেছেন, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে যে আমাদের বিশাল যে জনগোষ্ঠী বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা যারা বিদেশে চাকরি করেন, যারা আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা, তাদের নিরাপত্তা, তাদের দেখভাল করাটা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি এবং আমাদের মিশন ওখানে আরও যারা বাংলাদেশিরা আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, হতাহতের অবস্থা জানার চেষ্টা করছে এবং যারা বাংলাদেশি ভাইয়েরা আছেন তারা যতদূর সম্ভব যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, সে নির্দেশনা আমাদের মিশনকে দেওয়া হচ্ছে।

বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রিয়াদগামী ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বাংলাদেশের কোনো ফ্লাইট ওখানে ওই সময়ে কিং খালেদ এয়ারপোর্টে ছিল কি না বা বাংলাদেশের কোনো ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ রকম কোনো তথ্য নেই। হামলার খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে। আমরা আশা করব যে, এ রকম কোনো ঘটনা আর ঘটবে না।’