বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকার হিসাব নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। আততায়ী থেকে বাঁচতে এবং প্রাণ বাঁচাতে ওই ঠিকাদার দ্রুত পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে এই তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সুলতান আহমেদ বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং সালাম হাওলাদারের ছেলে। তিনি ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার এই প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার ব্যাটালিয়নে জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ জানান, ঢাকার ঠিকাদারি ব্যবসায় সুলতানের সাথে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন মাগুরার সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি। সোহেল রানার কাছে সুলতানের বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় সেই পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা বলে মাখরকাঠি গ্রামে উপস্থিত হন সোহেল রানা। তবে তিনি নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে একটি চেক সুলতানের হাতে দেন। এরপর একটি স্ট্যাম্পে সুলতানকে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দিতে শুরু করলে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

ফরিদ আহমেদের ভাষ্যমতে, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেল রানা হঠাৎ সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে সুলতান দ্রুত পাশের খালে ঝাঁপ দেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। এই সুযোগে মাইক্রোবাসে করে সোহেল রানা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা প্রসঙ্গে সুলতান আহমেদ বলেন, “তারা খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্ববিরোধের জেরে গুলি ছোড়ার এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে।