সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণার পরিবর্তে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় মঙ্গলবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এই আদেশ দেন।

আজ মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আট আসামির মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে নিহতদের হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরা জামিনে থাকায় আজ আদালতে উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং অসংখ্য শ্রমিক আহত হন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে তাঁকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর অভিযোগপত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে বাদ দিয়ে ১০ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরে সোহেল রানার মা ও বাবার মৃত্যুর কারণে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা রানা প্লাজা নামে ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি আরও চারতলা নির্মাণের আবেদন করা হয়। শপিং কমপ্লেক্সের কথা বলে পরে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপন করা হয়। নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২১ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।