জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ পাননি। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম মুক্তকণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, “আজ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আশা করছি দ্রুত এই মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে। ২৮ অক্টোবর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।”
আজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী সাতজন হলেন— ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নিরুপম সিংহ, গাজীপুরের ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডের উপপ্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফেরদৌস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির প্রশাসক জি এম ইশতিয়াক আজিজ, র্যাংকন ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল জহির এবং ঢাকার সদর রেকর্ড রুমের সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ আদালত এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে ৩ মে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে একই বছরের ৩০ নভেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন হাফিজুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদ তাঁর কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয় পাওয়া যায় ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে তাঁর নিট সঞ্চয় থাকার কথা ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, বেনজীর আহমেদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি কারবারে সেই অর্থ রূপান্তর, স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করেছেন।