ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম ওমর আলী এবং তার স্ত্রী হোসনে আরার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই দুটি মামলা করা হয়।

দুদকের চালানো এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এস এম ওমর আলীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ বিবরণীতে ৪০ লাখ ১০ হাজার ২৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী হোসনে আরার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৯ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ওমর আলী ও তার স্ত্রীকে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই বছরের ২ ডিসেম্বর তারা উভয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। পরবর্তীতে তাদের দাখিল করা বিবরণী, আয়কর সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে দুদক।

অনুসন্ধানের তথ্যানুসারে, ওমর আলী তার সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৭ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছিলেন। তবে দুদকের যাচাই প্রক্রিয়ায় তার নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার ১২৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর ফলে ঘোষিত সম্পদের বাইরে ৪০ লাখ ১০ হাজার ২৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পারিবারিক ব্যয়সহ ওমর আলীর অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার ১২৭ টাকা। বিপরীতে তার নিট আয় ছিল মাত্র ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮১ টাকা। আয় ও সম্পদের এই হিসাব পর্যালোচনার পর ১ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

অন্যদিকে, হোসনে আরার সম্পদ বিবরণী ও আয়কর নথি যাচাই করে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৯ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। দুদকের অভিযোগ, ওই সম্পদ অর্জন করে তিনি ভোগদখলে রেখেছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় তার স্বামী সহায়তা করেছেন।

মামলায় ওমর আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী হোসনে আরার বিরুদ্ধে একই আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগে ওমর আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

মামলা দুটির বাদী হিসেবে রয়েছেন দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল। ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়া জানিয়েছেন, মামলা করার পর এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।