চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে নিখোঁজ হওয়া দোকানি মো. এহসান প্রকাশ হাসানকে (৩৬) কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত এক সাবেক সেনাসদস্য ও এসআরবি সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. এহসান প্রকাশ হাসান দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করেছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে তিনি বাঁশখালীর পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে একটি হার্ডওয়্যারের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। গত শনিবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে চারজন ব্যক্তি তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যান। কালো পোশাক পরিহিত এবং মুখে মাস্ক পরা ওই ব্যক্তিরা নিজেদের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-র সদস্য বলে পরিচয় দেন। অপহরণের সময় হাসানকে হাতকড়াও পরানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অপহরণের পর অপরাধীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এহসানের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল তাঁর সন্ধানে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গত সোমবার এই অপহরণের ঘটনায় বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সিসহ (৩২) ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। সুমন মুন্সি আগে র্যাবে (বর্তমানে এসআরবি) কর্মরত ছিলেন। তাঁর পাশাপাশি আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, “অপহৃত দোকানিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে উদ্ধার করে বাঁশখালী থানায় আনা হয়েছে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বিস্তারিত আগামীকাল বৃহস্পতিবার জানানো হবে।”