শিক্ষক কিংবা অন্য কোনো পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের উপজেলা পরিষদ হলরুমে তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে পরিচালিত এই সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান।
সভায় বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীল পেশা। অন্য কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে একই সময়ে সাংবাদিকতা করা পেশাগত শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বিশেষভাবে শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষকরা সরকারের বেতনভুক্ত, তাই তাদের অন্য পেশা বা সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতার পরিচয় শুধু একটি পদবি বা পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সত্যতা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাংবাদিকদের পালন করতে হয়। তাই সাংবাদিকতায় যুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত আচরণবিধি ও নীতিমালা মেনে চলা জরুরি।”
প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ ব্যবসা করছেন, আবার কেউ অন্য কোনো পেশায় যুক্ত থেকেও সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন। এ ধরনের দ্বৈত পেশা সাংবাদিকতার পেশাগত স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তার মতে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। একজন সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, পেশাগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সময় সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জড়িত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর বলেন, “সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিল করতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন যে, পেশাদার সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবাদিকতার নীতিমালা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
সচিব আব্দুস সবুর সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। তার মতে, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম নয় বরং এটি জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।