মাদক ও সন্ত্রাসীদের পরিচয় যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্যায়, অনিয়ম এবং অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ আইন প্রয়োগ করার জন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় স্পিকারের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো এই সংবর্ধনার আয়োজন করে থাকে।
অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরও নিজেদের সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “সরকার অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি।” বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে তোফায়েল আহমেদকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ পরাজিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছিল, তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন। পরে ঢাকা থেকে একজনকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হয়।
লালমোহনে ওই ব্যক্তির ৫০০ বিঘা জমি এবং ঢাকায় একাধিক বাড়ি অর্জনের অভিযোগ তুলে স্পিকার বলেন, “৫ আগস্টের পর এসব সম্পদ রেখে তিনি সপরিবারে পালিয়ে যান।” আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে এবং দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও মন্ত্রীরা দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ দলটিকে আর রাজনীতি করতে দেবে না।” জাতীয় সংসদে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে নিরপেক্ষতার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করি। বিরোধী দলের সদস্যরাও এখন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি।”
তিনি আরও বলেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই কথা বলার সমান সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারের সমালোচনা করলে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা তিনি কখনো করেননি। গণতন্ত্রের স্বার্থে সব পক্ষকে সমান সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
স্পিকার উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের শাসনের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এই সরকারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তিনি সরকার ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তজুমদ্দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে স্পিকার জানান, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জন্য মেঘনার পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি চরমোজাম্মেল এলাকার সালাউদ্দিন ডাকাত নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইন প্রয়োগের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ওমর আসাদ রিন্টু। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। তার এই অর্জনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্পিকার তজুমদ্দিন উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।