বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। স্পিকারের কার্যালয়ে মিনিট পাঁচেক অবস্থান করার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।
বের হওয়ার সময় টানেলে সাংবাদিকরা তাঁকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। তবে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’ গাড়িতে ওঠার সময়ও তিনি একই বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’ এছাড়া পদত্যাগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত হোক।’
জাতীয় সংসদ ও বিএনপির সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সম্ভবত বিএনপির দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্পিকার এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছেন, যা কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানানো হচ্ছে, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, গতকাল বুধবার রাতে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র মুক্তকণ্ঠকে বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।