জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, মাদকদ্রব্য ও দুর্বৃত্ত দমনের জন্য ইশরাক হোসেনের যে উদ্যোগ ছিল, তা ইতিবাচক। তিনি জানান, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে তিনি গিয়েছিলেন। তবে স্পিকারের মতে, ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র হাতে নেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না এবং এটি তার পদমর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইশরাক হোসেন সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী এবং তার সাথে বডিগার্ড ও পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তা বলয় থাকে। এছাড়া প্রয়োজনে দলীয় কর্মীরাও তাকে সহায়তা করতে পারেন। স্পিকারের ভাষায়, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ কোনো অস্ত্রই শোভা পায় না। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মাদক ও দুর্বৃত্ত দমনে তার উদ্যোগের বিষয়টি ইতিবাচক ছিল বলে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এ কারণে সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে তার কাজের মূল্যায়ন করবেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, “ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন, ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাকে পদ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে, গতকাল সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।”
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের স্পীকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান (সভাপতি) নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিশেষ অর্জনে উপজেলা বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনগুলো তাকে এই নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “এ দুটি উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলই নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপসহীন। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।”
গত ১৭-১৮ বছরের দুঃশাসনের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে বলে উল্লেখ করে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সাধারণ মানুষকে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে স্পিকার সতর্ক করে বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই সময়ে কিছু মানুষ সাধু সাজার চেষ্টা করবে। তবে এটাই ভোটার হওয়ার সার্থকতা যে, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তিনি জানান, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে মোট ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হয়েছে এবং সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। উৎসবের আনন্দ সবার জীবনে নতুন প্রেরণা বয়ে আনুক এবং বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধকে আরও সমৃদ্ধ করুক।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।