ঢালিউডের নব্বইয়ের দশকের অত্যন্ত পরিচিত দুই মুখ ওমর সানী ও বাপ্পারাজ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা একসঙ্গে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। রুপালি পর্দায় তাঁরা সহকর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও, পর্দার আড়ালে তাঁদের সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড় বন্ধুত্বের। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বে মিশে আছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ফেলে আসা পুরোনো দিনের অমলিন স্মৃতি এবং একে অপরকে নিয়ে খুনসুটি ও হাসিঠাট্টা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাপ্পারাজকে নিয়ে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তাঁদের সম্পর্কের কিছু বিশেষ দিক তুলে ধরেছেন ওমর সানী। বন্ধুকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বাপ্পারাজের দুষ্টুমির প্রসঙ্গটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন।
ওমর সানীর কাছে বাপ্পারাজ কেবল একজন সহকর্মী নন, বরং পরিবারের একজন অত্যন্ত কাছের মানুষ। তাঁর পাশাপাশি স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গেও বাপ্পারাজের চমৎকার বন্ধুত্ব রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে এমন এক সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তারকাখ্যাতির চেয়ে মানুষটির ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এই সম্পর্কের কথা জানিয়ে স্ট্যাটাসে ওমর সানী লিখেছেন, ‘একজন বাপ্পারাজ, একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো বন্ধু এবং দুষ্টু বন্ধু, হাসিখুশি বন্ধু।’
এরপর একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করার স্মৃতিচারণ করেন ওমর সানী। বাপ্পারাজ কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাকের সন্তান এবং নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। এত বড় পরিচয়ের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই বলে মনে করেন ওমর সানী। বরং একসঙ্গে কাজ করার সময় বাপ্পারাজের অমায়িক আচরণ তাঁকে অবাক করত। ওমর সানীর ভাষায়, ‘আমি মাঝেমধ্যে অবাক হতাম, উনি নায়করাজের সন্তান এবং একজন ভালো আর্টিস্ট, উনি কেন আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন? কিন্তু দিন শেষে উনি বলতেন, কাজটাই হচ্ছে আসল।’
কাজের প্রতি এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই বাপ্পারাজের প্রতি ওমর সানীর শ্রদ্ধার অন্যতম প্রধান কারণ। চলচ্চিত্রে কে কার চেয়ে বড় বা কে কোন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান—তার চেয়ে কাজকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বাপ্পারাজের আচরণ থেকে তিনি এই শিক্ষা পেয়েছেন বলে তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে।
বন্ধুত্বের এই গল্পের মাঝে দুষ্টুমির কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন ওমর সানী। একসঙ্গে কাজ করার দিনগুলোতে বাপ্পারাজের বিভিন্ন দুষ্টুমির কারণে শুটিংয়ের পরিবেশ হয়ে উঠত অত্যন্ত প্রাণবন্ত। সেই স্মৃতি মনে করে ওমর সানী লিখেছেন, ‘আর এত দুষ্টুমি করতেন, এখনো করেন। ওই আমলে যদি এই মোবাইল থাকত, তাহলে দুষ্টুমির চরম ভাইরাল হতাম আমি।’
বন্ধুকে নিয়ে এমন মজার স্মৃতিচারণা করা এই অভিনেতার জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালেও বাপ্পারাজকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন ওমর সানী। সে সময় তিনি বাপ্পারাজকে নিজের সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা অন্যতম একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর মার্জিত আচরণ, অভিনয় দক্ষতা ও বন্ধুত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তিনি। এমনকি বাপ্পারাজের সামনে গেলে নিজের বয়স যেন পুনরায় ২২ বছর মনে হয়—এমন কথা লিখেছিলেন ওমর সানী।
বন্ধুর প্রতি স্যালুট জানিয়ে এবারের স্ট্যাটাসে ওমর সানীর সবচেয়ে আন্তরিক কথাগুলো এসেছে বাপ্পারাজের ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়ে। বন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাপ্পারাজ ভাই, আপনাকে একটা কারণে স্যালুট, কোনো বদ অভ্যাস আপনার নাই। আপনার কাছে বরঞ্চ আমরা খারাপ।’
বন্ধুর প্রতি এই প্রশংসার মাঝেও মিশে আছে তাঁদের সম্পর্কের সহজ-স্বাভাবিক রসায়ন। বাপ্পারাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নিজের প্রজন্মের একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁকে নিয়ে গর্বের কথাও ব্যক্ত করেছেন ওমর সানী। তবে সেই গর্বের পাশাপাশি দুষ্টু বন্ধুকে হালকা খোঁচাতেও ভুলেননি তিনি। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে লিখেছেন, ‘আমার জেনারেশনে আমি বাপ্পারাজকে নিয়ে গর্ব করি। দিন শেষে বলি, আপনি অনেক দুষ্টু।’
ঢালিউডে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। সময়ের আবর্তে কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবার কিছু সম্পর্ক আগের মতোই অটুট থাকে। ওমর সানীর এই স্ট্যাটাসে বাপ্পারাজের প্রতি যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সিনেমার বাইরেও তাঁদের সম্পর্কের জায়গাটি অত্যন্ত গভীর ও মজবুত।