স্ত্রী মৌসুমী এবং ছেলে ফারদিনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। তাঁর অভিযোগ, এসব পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে একটি ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা, নারী শিল্পীদের প্রতি অসম্মান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত চর্চার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। পরিবারকে নিয়ে ছড়ানো এসব মিথ্যা তথ্যের পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই অভিনেতা।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের পরিবার ও চলচ্চিত্র অঙ্গন নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওমর সানী। তিনি বলেন, “আমাদেরকে ক্যাশ করে কয় টাকা কামাই করবি বাবা তোরা? কী লাভ? এই টাকা কে খাবে—শিয়াল-কুকুরে খাবে। আমাদেরকে একটা ব্যবসার জিনিস বানিয়ে ফেলেছে।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনগড়া তথ্য প্রচারের বিষয়ে ওমর সানী সতর্ক করে বলেন, “যেসব পোস্টে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে মামলা করব।” তাঁর দাবি, কিছু নির্দিষ্ট পেজ ও ব্যক্তি তাঁকে, মৌসুমী এবং তাঁদের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ভিত্তিহীন কথা প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, ওমর সানী ও মৌসুমীর একমাত্র ছেলে ফারদিন পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসা থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন। এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওমর সানী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিবারকে নিয়ে এ ধরনের প্রচারণার ফলে তাঁরা সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান ওমর সানী। তাঁর ছেলে ফারদিনও এই বিষয় নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে একটু আগেও আমার ফোনে কথা হয়েছে। আমার ছেলে বলেছে, আব্বু তুমি অ্যাকশনে যাও। এগুলো আর পারছি না। কারণ, এই সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার ছেলেমেয়েকে কথা বলতে হয়। সমাজে তাকে বসবাস করতে হয়।”
চিত্রনায়িকা স্ত্রী মৌসুমীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত আলোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওমর সানী বলেন, “আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন।” তাঁর মতে, স্বামী-স্ত্রী প্রয়োজনে আলাদা দেশে থাকতে পারেন, কিন্তু তা নিয়ে ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করে প্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কেবল নিজের পরিবার নয়, সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে সাধারণ মানুষের মনে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন কনটেন্ট তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ওমর সানী প্রশ্ন করেন, “মিডিয়ার সব আর্টিস্টকে পচা, মিডিয়ার চেয়ে যে অন্য জগতের মানুষ আরও খারাপ, এটা কেউ বলে না?” দীর্ঘ অভিনয়জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রে এসে কি আমরা পাপ করেছি? আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি। নিজের কাজ নিয়েও ভালো আছি। আমি চুরি করি না। আমরা এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।”
এফডিসিতে শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, “কেন রে ভাই? কী ফাইজলামি? আমরা কি মানুষ না?” সেই সঙ্গে নারী শিল্পীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করার জন্য তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতি আহ্বান জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, “শুধু চলচ্চিত্রকে বাঁচালে হবে না, চলচ্চিত্রের শিল্পী যাঁরা আছেন, তাঁদেরও বাঁচাতে হবে।” তাঁর মতে, শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও নেতিবাচক প্রচারণা অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের মেধাবী ছেলেমেয়েরা এই শিল্পে আসতে নিরুৎসাহিত হবে।
নিজের ও মৌসুমীর বয়স এবং শারীরিক গঠন নিয়ে অযাচিত আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমার শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন? মৌসুমীর শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন?” দীর্ঘদিনের কাজের মাধ্যমে তাঁরা দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের হেয় করা উচিত নয়।
সবশেষে এ ধরনের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ওমর সানী বলেন, কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হেয় করার কোনো যুক্তি হতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।