নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী মৌসুমী দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। এর ফলে তাঁর দেশে আসা-যাওয়ার পথে যে আইনি বাধা ছিল, তা এখন দূর হয়ে গেল। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই সুখবরটি জানান তিনি। পরবর্তীতে এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি নিজেই গ্রিনকার্ড প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন তাঁর মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার বিষয়টি তদারকি করেছেন, তেমনি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও সেবার দায়িত্বও পালন করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকায় তাঁর জন্য দেশে আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ছিল। দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিদেশের মাটিতে থাকলেও অভিনয় জগতের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করেননি মৌসুমী। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন তিনি ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অভিনয় করেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায়। তবে নিয়মিত অভিনয় জীবন কিংবা নতুন কোনো চলচ্চিত্রে ফেরার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি এই অভিনেত্রী।

পারিবারিক জীবনে অভিনয়শিল্পী মৌসুমী ও ওমর সানীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁদের মেয়ে ফাইজা মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ছেলে ফারদীন থাকেন দুবাইয়ে। অন্যদিকে, স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বর্তমানে বাংলাদেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসার দেখাশোনা করছেন। তবে নিয়মিত ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন তিনি।

নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে ক্যারিয়ার শুরু করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মৌসুমী। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দোলা’ এবং ‘অন্তরে অন্তরে’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শক হৃদয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অগণিত ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রীর দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত। স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ফলে এখন থেকে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং বাংলাদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগের মতো কোনো সমস্যা থাকবে না।

তবে এখন বড় প্রশ্ন হলো, তিনি ঠিক কবে দেশে ফিরবেন? দেশে ফিরে পুনরায় অভিনয়ে নিয়মিত হবেন কি না, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কবে দেশে ফিরবেন—সে বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী মুক্তকণ্ঠকে বললেন, ‘ফিরে তো আসতাম আরও আগে। আমি এখানে যে কাজে এসেছিলাম, তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আম্মার কারণে এখন আসতে পারছি না। আম্মা অনেক দিন ধরে অসুস্থ, তাঁর দেখাশোনার বিষয়টা আছে। নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি আম্মার দেখাশোনার বিষয়টা তো অবশ্যই আছে। আম্মার বয়স হয়েছে, তিনি এখন আর একা চলতে পারেন না। তাঁর সহযোগিতার দরকার হয়। দেখা গেল, একদিন নিজে নিজে হাঁটতে পারছেন, পরদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এই হচ্ছে এখন আমার অবস্থা। ডিমেনশিয়া আছে একটু, এটাও বয়সের কারণে। এর বাইরে অন্য কোনো জটিল সমস্যা নেই। একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি। চোখের সামনে আম্মাকে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছি। এ সময়টায় আম্মার পাশে থাকতে পারছি, এটাই অনেক বেশি আনন্দের ও ভালো লাগার।’