মোবাইল নম্বর ক্লোন করে এবং বিভিন্ন কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তান্ত্রিক, কবিরাজ ও তথাকথিত ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার মূলপাত্তম গ্রামের রমজান শেখের পুত্র মো. রাজিব (২৮) এবং একই থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের পুত্র সুমন হাওলাদার (২৬)।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে এই চক্রের সদস্যরা বিজয় বাবু নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে রাজবাড়ী জেলার বিনোদপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামকে ফোন করেন। তারা রশিদুলকে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের পারস্পরিক বিশ্বস্ততার কারণে রশিদুল সেই চাল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর বিজয় বাবুর নম্বর থেকেই তাকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, বিকেল ৪টের মধ্যে চাল পৌঁছে যাবে। এই সুযোগে রশিদুলকে দ্রুত টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম।

তবে বিকেল পর্যন্ত চাল না আসায় তিনি যখন বিজয় বাবুর সাথে যোগাযোগ করেন, তখন বিজয় বাবু জানান যে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তখনই ভুক্তভোগী রশিদুল বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রশিদুল রাজবাড়ী সদর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, স্থানীয় থানা-পুলিশ এই মামলার কোনো কূলকিনার করতে না পারায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আট মাস পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট এলাকা থেকে প্রথমে সুমন এবং পরবর্তীতে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

তদন্তে জানা গেছে, এই আসামিরা সাধারণ মানুষকে কঠিন ও গোপন রোগের সমাধান, প্রেমে সফলতা এবং দাম্পত্য জীবনের নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখাত। তারা কখনও জিনের বাদশা, আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজের ছদ্মবেশ ধারণ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করত। এসব অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এবং নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিরা।

এই চক্রের কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত। চক্রের কেউ মোবাইল ফোন ক্লোন করে কথা বলতেন, কেউ ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন, আবার কেউ নানা উপায়ে বিকাশ ও নগদের টাকা ক্যাশ আউটের সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রতারক ও জালিয়াত চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।