জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান কমিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির একাধিক সূত্র মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছে, শাখা সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীর জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ জুলাই কেন্দ্র থেকে এই শাখার ৫২ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আব্দুল্লাহ আল মাহাথির, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. ইসমাইল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. উলফাতুল রহমান। তবে অভিযোগ উঠেছে, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহাথির সাংগঠনিক কাজে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ফলে সংগঠনটির ব্যানারে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, যা দলের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে।

এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে একটি সভা করে শাখা কমিটি। ওই বৈঠকে আব্দুল্লাহ আল মাহাথিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। আলোচনার পর কেন্দ্র থেকে কমিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং দ্রুত নতুন কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির কয়েকটি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে মূলত কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় কমিটি নবায়নের প্রয়োজন মনে করেছে।”

অন্যদিকে, স্থগিত কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহাথির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। আমার ছাত্রজীবনও প্রায় শেষের দিকে, মাস্টার্স শেষ করছি। ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। এখানে সংগঠনকে নিয়মিত সময় দিতে পারছি না। এতে আমার ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা ভাবছি। বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়।”

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে জানান, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। এসব বিবেচনায় সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে গতকাল রাতে জরুরি সাংগঠনিক সভায় কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ৫২ সদস্যের কমিটির ৩০ জনের বেশি উপস্থিত ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্থগিত কমিটির সভাপতির নিষ্ক্রিয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট কারণে কমিটি স্থগিত করা হয়নি। পুরো কমিটির কার্যক্রমে গতি আনা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের তুলনায় জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”