বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তারা ভোটার আইডি কার্ডের বিনিময়ে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা দেই ফ্যামিলি কার্ড, আর জামায়াত ফ্যামিলি কার্ডের লোভ দেখিয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে বিয়ে করে ফেলে।” জামায়াতের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করেন তিনি। খোকনের মতে, তাদের “মুখে মধু, অন্তরে বিষ।”

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম সার্বজনীন মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন আরও উল্লেখ করেন যে, এক সময় জামায়াতের আমির বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “জামায়াতের আমির একসময় বলেছিলেন, রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড।” তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি করেন তিনি। খোকনের অভিযোগ, এখন ওই দলটির সংসদ সদস্যদের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যারা সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে না, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতকে নিয়ে তাঁর সমালোচনা আরও দীর্ঘ হয়। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা মূলত মুখ এবং মাইক দিয়ে বেঁচে আছে, মানুষের অন্তরে নেই। তবে এই বিষয়ে তিনি আর দীর্ঘ আলোচনা করতে রাজি হননি।

এক পর্যায়ে এনসিপি প্রসঙ্গে কথা বলেন খোকন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নানা বিশ্লেষণ শুরু করেছে। তাঁর দাবি, এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করা। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, বিএনপির সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীরা দলীয় সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে চলেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী, ডাসার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদার, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান মাহমুদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান তালুকদার, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম খান, ডাসার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান আজাদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।