রাজশাহীর শিল্প সম্ভাবনা ও রেশমশিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুগার মিল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল এবং রেশম কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বিশ্বাস করেন, এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উৎপাদন শুরু করলে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ প্রশস্ত হবে এবং সামগ্রিকভাবে রাজশাহীর স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে গতি ফিরবে। পাশাপাশি কৃষক, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এক জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
রাজশাহীর কৃষি ও শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে আখ ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কৃষির পাশাপাশি সুগার মিল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশমশিল্প এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।”
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রিজভী বলেন, “বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে কাজ করছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করা গেলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন এবং রাজশাহীর শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষক এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বিশেষ পরিকল্পনা হিসেবে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেন তিনি, যার লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
রিজভী বিস্তারিত জানান, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একজন দরিদ্র মানুষ মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পেতে পারেন, যা নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে।” সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই এই উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।
রাজশাহীর অর্থনীতিতে কৃষির পাশাপাশি শিল্পের অবদান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে এ অঞ্চলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।