দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টয়োটা তুশো করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।
জাপানি প্রতিষ্ঠান টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের একটি মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তাঁরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে এবং প্রযুক্তির আধুনিক হস্তান্তর সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে টয়োটার বর্তমান কার্যক্রমের আরও সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। টয়োটার এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম বাড়ানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, উন্নত অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, টয়োটা তুশো করপোরেশন যদি এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, তবে সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করবে।
টয়োটার পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য হবে।
এছাড়া একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যেখানে ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শন সামনে রেখে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবসম্পদ উন্নয়নেও টয়োটা বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিং এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেন।