ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামির স্বজনদের বিরুদ্ধে। এই আকস্মিক হামলায় পুলিশের দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। অভিযান চলাকালীন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি দাবি করেন যে, তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন। পুলিশ যখন তাঁর জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চায়, তখন তিনি নানাভাবে টালবাহানা শুরু করেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে আব্দুল কুদ্দুসকে পুলিশের খপ্পর থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর স্বজনরা। পুলিশ যখন তাঁদের এই প্রচেষ্টায় বাধা দেয়, তখন তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগে আব্দুল কুদ্দুসকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহত হন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাহিদুল ইসলাম এবং কনস্টেবল বাকিরুল। দ্রুত থানায় খবর দেওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যসহ একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, এএসআই রাহিদুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এই বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। আহত দুই সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”