রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ সরকারের পক্ষ থেকে আখচাষিদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি এই প্রণোদনার চেকটি গ্রহণ করেন। একজন মাননীয় সংসদ সদস্য হয়ে আখচাষি হিসেবে সরকারি প্রণোদনা নেওয়ার এই ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের মোট ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য সরকার মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ করেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে রাজশাহীর এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বোতাম চেপে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি এই অর্থ পাঠানোর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর মঞ্চে ১৫ জন আখচাষিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে চেক তুলে দেন। এই তালিকায় প্রথমেই রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি হিসেবে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে চেক গ্রহণের জন্য ডাকা হয়। এরপর অন্য ১৪ জন কৃষকও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তাদের প্রাপ্য চেক গ্রহণ করেন।

একজন সংসদ সদস্যের এই প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত খালেক বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আবু সাঈদ চাঁদ একজন নিবন্ধিত আখচাষি। তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, একজন ব্যক্তি ও কৃষক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সে হিসেবে তার প্রণোদনা গ্রহণে আপত্তির সুযোগ নেই।”

পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ তার মুঠোফোনে জানান, এখন তিনি একজন আখচাষি। মূলত অন্য কৃষকদের উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই তিনি এই অর্থ গ্রহণ করেছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কম্পিউটারের একটি বোতাম চেপে দেশের ১৫টি চিনিকল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির ব্যাংক হিসাবে সরকারি প্রণোদনার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আখচাষিদের জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কম্পিউটারের বোতামে চাপ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। সরকারি সহায়তার অর্থ সরাসরি কৃষকদের হিসাবে পাঠানোর এ উদ্যোগের ফলে তারা সহজেই প্রণোদনার টাকা পাবেন।”

কার্যক্রম উদ্বোধনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে একসঙ্গে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলার আহ্বান জানান। এরপর তিনি কম্পিউটারের বোতামে চাপ দিলে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত আখচাষিদের তাদের মুঠোফোন পরীক্ষা করে দেখতে বলেন তিনি। তাদের ফোনে অর্থ জমার বার্তা পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্থ জমার তথ্য পাওয়া যাবে।” এরপর তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি দেন।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর ১৫ জন আখচাষিকে পর্যায়ক্রমে মঞ্চে ডেকে তাদের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই প্রণোদনা আখচাষিদের উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমাতে এবং আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে বীজ, সার, সেচ এবং জমি প্রস্তুতসহ চাষাবাদের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতে এই অর্থ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।