কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মী অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে তারা রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
আনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল আমিন নয়ন স্ট্রিমকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “কম্বোডিয়ায় আটকা পড়া ৩০ বাংলাদেশি দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তবে তারা এখনো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে। কারণ, এখানে সিআইডির ফরেনসিক টিম রয়েছে। তাদের মোবাইল থেকে শুরু করে সব ধরনের মালামাল প্রসেসিং হচ্ছে। কারণ, তারা সবাই কম্বোডিয়ার স্কাম সেন্টারে ছিলো।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সিআইডির যাবতীয় আইনি ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এই প্রবাসীদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেককে জোরপূর্বক সাইবার স্ক্যামিং বা অনৈতিক অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে আটকে রাখা হয়। এমনকি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে গত ৩ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে দেশে ফেরার চেষ্টা করলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ৩২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। পরে দুজনের মুক্তি হলেও বাকি ৩০ জন দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন।
উক্ত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে দেশে ফিরে আসা ৩০ কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে এবং মোহাম্মদ কবির। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের মুক্ত করে দেশে পাঠানোর নির্দেশনা ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেওয়া হয়েছিল।