কর্মসংস্থানের আশায় ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা সুইটি আক্তার। সরকারি নথির তথ্যানুসারে, ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশ ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় বহির্গমন ছাড়পত্র লাভ করেন। সম্প্রতি সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার পরিচয় সুইটি আক্তার হিসেবে সামনে আসে। তবে মেয়ের মৃত্যুর খবরটি এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি তার বাবা-মা।
সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান। সেখানে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই নারীর নাম সুইটি আক্তার এবং পুরুষের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিষয়টি অবহিত করেনি বলে জানিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া এবং আদালতের রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর গণমাধ্যমে আসার পর তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর শুরু হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা এখনও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডেকে এনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটি আক্তারের ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।
সুইটি আক্তারের বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগমও মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, “মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।” এই জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”