খুলনার তেরখাদা উপজেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পূজা দেখা নিয়ে শুরু হওয়া সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাটেঙ্গা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার। দুর্গাপূজার মণ্ডপে পূজা দেখা নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ টগরের ভাই রিয়াদ শেখের সঙ্গে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা হুমায়ুন কবিরের ছেলে তাসিম মোল্লার কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার রেশ ধরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষের সমর্থক ও লোকজন কাটেঙ্গা বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর উভয় পক্ষ একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। সংঘর্ষের ফলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা এই যে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হননি।
ঘটনার খবর পেয়ে তেরখাদা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের দ্রুত তৎপরতার কারণেই বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এই বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী বলেন, “ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ টগরের ভাই রিয়াদ শেখ ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা হুমায়ুন কবিরের ছেলে তাসিম মোল্লার মধ্যে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা বিএনপির নেতারা বসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উপজেলা যুবদলের নেতা রহমান কবির ও সাব্বির আহমেদ টগরকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যায়।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল এ বিষয়ে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”