খুলনার তেরখাদায় নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন জেলের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানে এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মিকাইল শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২৮), মো. আলমগীর কাজীর ছেলে মাজাহারুল কাজী (২২) ও আশরাফ শরীফের ছেলে শাজাহান শরীফ (৩৮)।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৩১ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী নদী পার হওয়ার জন্য তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের বেলেঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় নদীতে মাছ ধরতে থাকা কয়েকজন জেলে তাকে নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নৌকায় তুলে নেয়। তবে তাকে গন্তব্যস্থল দিঘলিয়ার দিকে না নিয়ে কয়েকশ গজ দূরে মধুপুরের শ্যামনগর এলাকার পুরোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠায়। এরপরই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিউল শেখ, মাজাহারুল কাজী ও শাজাহান শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

অন্যদিকে, তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস মুক্তকণ্ঠকে জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”