টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ অটোভ্যান চালক কিশোর সবুজ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব-১৪। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কিশোরের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পর থেকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের নিবিড় তদন্তের পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের একজনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে ময়মনসিংহের এসআরবি-১৪।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয় যে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গতকাল ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকায় একটি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে মামলার ৩ নম্বর পলাতক আসামি হাবিবকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর হাবিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি শাহিনকে গ্রেপ্তার এবং কিশোরের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের জন্য পরবর্তী অভিযান শুরু করে র‌্যাব-১৪। এই ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে মামলার প্রধান আসামি মো. শাহিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-১৪।

গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি শাহিনের স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার সকালে সখীপুর থানাধীন বহেড়াতৈল আনিসনগরের গভীর জঙ্গলে পুনরায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে শাহিনের দেখানো নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিশোরের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে মাথার খুলি, চুল ও হাড়ের অংশ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসআরবি-১৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা জানান, “অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে কিশোর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

এসআরবি-১৪ আরও জানিয়েছে যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।